এস রফিক, ডুমুরিয়া””””
ডুমুরিয়ায় মালিকানা জমির ও স্থাপনার ক্ষতি পুরণ না পাওয়ায় ঝুলে আছে হাসানপুর ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজ নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ রেখে জবুথবু করে কাজের ইতি টানার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তার অভাবে আজও মিমাংসা হয়নি প্রকল্পের জায়গা। ফলে একদিকে যেমন জনভোগান্তি বাড়ছে অন্যদিকে উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ডুমুরিয়া উপজেলার হাসানপুর হামকুড়া চরভরাটি নদীর উপর নির্মাণ হচ্ছে ৪১ মিটার দৈঘের্যর একটি গার্ডার ব্রিজ। ১৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ব্রিজের প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্রিজের পূর্বে খাজুরার পাড়ে গাইডওয়ালসহ এ্যাপ্রোস রোড সম্পন্ন হলেও পশ্চিমে হাসানপুর খেয়াঘাট পাড়ে সড়কের উত্তরপাশে পূর্বে থেকে একটি পাকা স্থাপনার কারণে গাইডওয়াল দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ কাজও থমকে পড়েছে।
এনিয়ে প্রায় বছর খানেক ধরে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে স্থাপনা মালিকের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেও কোনও সুরহা হয়নি। ব্রিজটি নির্মাণ হলে রুদাঘরা,হাসানপুর ,মিকশিমিল ও ডুমুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সহজ হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজের কাজ অসমাপ্ত রেখে শেষ করার চেষ্টা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এনিয়ে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট রুদাঘরা ও ডুমুরিয়া ইউনিয়নবাসী লিখিত অভিযোগ করেছেন। গাইডওয়াল ছাড়া ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করলে মারাত্মক ঝুঁকি ও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঠিকাদার মোঃ জাকির হোসেন জানান, ‘ব্রিজের পশ্চিম পাশে কোনায় তিন শাটার বিশিষ্ট একটি পাকা স্থাপনা রয়েছে রেজা নামে এক ব্যক্তির। যেটি সম্পূর্ণ সরকারি নদীর খাস জায়গার উপর। এনিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন। তারপরও ঘরের ক্ষতিপূরণ হিসেবে একলাখ টাকাও দিতে চেয়েছি। কিন্তু উনি (স্থাপনার মলিক) খাস জমির টাকা চায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ওই টাকা দিতে রাজি না। তিনি আরো বলেন, ‘আর বেশি দেরি করবো না। যেভাবে আছে সেই ভাবে কাজ শেষ করে যাবো।থ
স্থাপনা মালিক খাজুরা গ্রামের রেজাউল ইসলাম খান রেজা বলেন, ‘খাস ও রেকর্ডীয় জমির উপর আমার পাকা দোকান ঘরটি। খাস জমি না হয় বাদ দিলাম কিন্তু প্রায় দুই শতাংশ রেকর্ডীয় জমি আছে। সেখানে আমার কিছু গাছপালা ছিলো সেগুলোও বিনা অনুমতিতে কেটে ফেলেছে।থ এজন্য তার স্থাপনার ক্ষতিপূরণসহ রেকর্ডীয় জমির টাকা না দিলে তিনি সরবেন না।
এ বিষয় খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক জানান, ‘স্থাপনাটির কারণে ব্রিজ নির্মাণ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গাইড ওয়াল নির্মাণ না করে অ্যাপ্রোচ রোড করলে এক বছরও টিকবে না।থতিনি বলেন ‘স্থাপনার মালিক রেজা সাহেব আমাদের সাথে কোনও কম্প্রোমাইজে না এসে মামলা করেছেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় কাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাকে আমরা স্থাপনার ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছি।















